ইউনিভার্সিটি তে থাকার সময় দিনাজপুর জেলার ডিসি অফিসে বেশকিছু ফ্রিল্যান্সিং সংক্রান্ত সেমিনার-সিম্পোজিয়াম এ অংশগ্রহণ করেছিলাম। ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার জনপ্রিয় করার ব্যাপারে বেশ কিছু আলোচনা এবং পর্যালোচনা মুলক প্রোগ্রামে সময় দিয়েছিলাম।
আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই, আল মাসুদ হীরা আইটি ভ্যানিলা নামে একটি তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক সেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। দিনাজপুর শহরের প্রানকেন্দ্রে একঝাক তরুন মেধাবী ছেলে মেয়েদের সাথে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্নভাবে লার্নিং এবং আর্নিং ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট এর সাথে যুক্ত আছেন। তাছাড়া নিজের অফিসে নানান সময়ে বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং প্রোগ্রাম পরিচালনা করছেন এবং অনলাইন প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করছেন।
আল মাসুদ হীরা ভাইয়ের আগ্রহে একরকম ভাবে আমি লার্নিং এন্ড আর্নিং ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টে ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট কোর্সে প্রশিক্ষক হিসেবে যুক্ত হয়েছি। মহামারীর কারনে সমস্ত কার্যক্রম অনলাইনে চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে আমার জন্য এই প্রজেক্টে যুক্ত হওয়াটা বেশ সহয হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগ্রহী প্রশিক্ষনার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা জুম সফটওয়ারের মাধ্যমে অনলাইনে নেয়া হয়েছে।
পুরো প্রক্রিয়ায় আমাদেরকে সার্বক্ষনিক সহযোগীতা করছে মাহমুদুল হাসান। সেও অনেক দিন ধরে মার্কেটপ্লেস এবং লোকাল মার্কেটে প্রফেশনাল ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে কাজ করছে। আমাদের মূলত ঈদের আগেই ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। তবে ইন্টারভিউতে গিয়ে আমার বেশ কিছু নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। এখানে আসলে তিন ধরনের ছেলেমেয়েরা যুক্ত হবার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
কিছু কিছু ছেলে মেয়েদের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ আগ্রহ রয়েছে এবং তারা নিজেরাও ইউটিউব এর মাধ্যমে কিংবা হচ্ছে গুগল সার্চ করে অনেক কিছু জানার চেস্টা করেছে। অনেকে কিছুটা শিখতেও শুরু করেছে তবে ঠিক ঠিক দিকনির্দেশনার একটা অভাব বোধ করছে তারা।
আবার কিছু কিছু ছেলে মেয়েদের পাওয়া গেছে যারা আগ্রহ দেখিয়েছে কিন্তু তারা কখনোই জানেনা যে ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে কি কাজ হয় এবং কিভাবে করতে হয় । আমাদের ইন্টারভিউর প্রথম প্রশ্নই ছিল যে ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা আছে কিনা।
আবেদনকারীদের মধ্যে আরেক ধরনের শিক্ষার্থী পাওয়া গেছে যারা ওয়েব ডিজাইন ছাড়া অন্য বিষয়ে অনেক বেশী দক্ষ এবং মার্কেটপ্লেসে এখনি কাজ শুরু করার উপযুক্ত। তারা এখন নতুন করে ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট শিখতে শুরু করলে এক্সপার্ট হতে অনেক বেশী সময় লেগে যাবে।
আমার মনে হয় কোন কিছু শিখতে চাওয়ার আগে সেটা সম্পর্কে একটা প্রাথমিক ধারণা নেওয়া উচিত। অনলাইনে সার্চ করে কিংবা ইউটিউবে ভিডিও দেখে এই তথ্যগুলো সবার পক্ষে জানা সম্ভব। যা হোক সব মিলিয়ে আমাদের প্রথম এবং দ্বিতীয় ব্যাচের জন্য কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করতে পেরেছি। সকলের সাথে যোগাযোগ এবং এসাইনমেন্ট জমা দেয়ার মাধ্যম হিসেবে গুগল ক্লাসরুম সফটওয়ারটি বেছে নিয়েছি। ঈদের আগে ক্লাস শুরু করতে পারিনি কিন্তু আমরা একজন অন্যজনের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য চেষ্টা করছি।
প্রথম পর্বে আমরা অনুরোধ করেছি যেন সকল প্রশিক্ষনার্থী নিজের সম্পর্কে ভিডিও রেকর্ড করে পাঠায়। অনেকেই দারুন সব ভিডিও পাঠিয়েছে এবং তাদের প্রেজেন্টেশন যথেষ্ট সুন্দর। ভিডিও এডিটিং এবং তাদের কথা বলার ধরন খুব অসাধারন ছিল অভিভূত হওয়ার মতো।
আমরা যাচাই-বাছাই করে দুইজনকে সেরা শিক্ষার্থীকে নির্বাচিত করেছি ।প্রথম গ্রুপে নির্বাচিত হয়েছে হুমায়ূন আহমেদ এবং দ্বিতীয় গ্রুপে নির্বাচিত হয়েছে নুর আলম। হুমায়ূন আহমেদের সাথে আমার ব্যক্তিগত ভাবে আলাপ হয়েছে, সে দীর্ঘদিন ধরে তার এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠানসহ বেশ কিছু প্রফেশনাল মানের ডকুমেন্টারি তৈরির কাজ করে আসছে।
জুনের ১ তারিখ থেকে পুরোদমে ক্লাস শুরু হবে, তার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা। আশা করি, যারা আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছে তারা ধৈর্যের সাথে মনোযোগের সাথে আমাদের ক্লাসের যুক্ত থাকবে। যে এসাইনমেন্ট দেওয়া হবে সেগুলো সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন