আজ ঈদের তৃতীয় দিন, সারা পৃথিবী করোনা ভাইরাসের আক্রমণে বিপর্যস্ত অবস্থায় সময় পার করছে। এবারের ঈদ অন্যান্য সময়ের চাইতে অনেকটা ব্যতিক্রম ছিল এবং ঈদের পুরোটা সময় আমাদেরকে ঘরে বসে কাটাতে হয়েছে। রমজান মাসের শেষ দুই সপ্তাহ লার্নিং এন্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট নামে বাংলাদেশ সরকারের একটা প্রজেক্টে যুক্ত হবার কারনে একটু ব্যস্ত ছিলাম। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তরুণদেরকে তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অনলাইন ভিত্তিক প্রফেশন গড়ার জন্য নানা ভাবে সহযোগিতা করছে সরকার। ইউনিভার্সিটি তে থাকার সময় দিনাজপুর জেলার ডিসি অফিসে বেশকিছু ফ্রিল্যান্সিং সংক্রান্ত সেমিনার-সিম্পোজিয়াম এ অংশগ্রহণ করেছিলাম। ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার জনপ্রিয় করার ব্যাপারে বেশ কিছু আলোচনা এবং পর্যালোচনা মুলক প্রোগ্রামে সময় দিয়েছিলাম।
আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই, আল মাসুদ হীরা আইটি ভ্যানিলা নামে একটি তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক সেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। দিনাজপুর শহরের প্রানকেন্দ্রে একঝাক তরুন মেধাবী ছেলে মেয়েদের সাথে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্নভাবে লার্নিং এবং আর্নিং ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট এর সাথে যুক্ত আছেন। তাছাড়া নিজের অফিসে নানান সময়ে বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং প্রোগ্রাম পরিচালনা করছেন এবং অনলাইন প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করছেন। আল মাসুদ হীরা ভাইয়ের আগ্রহে একরকম ভাবে আমি লার্নিং এন্ড আর্নিং ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টে ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট কোর্সে প্রশিক্ষক হিসেবে যুক্ত হয়েছি। মহামারীর কারনে সমস্ত কার্যক্রম অনলাইনে চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে আমার জন্য এই প্রজেক্টে যুক্ত হওয়াটা বেশ সহয হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগ্রহী প্রশিক্ষনার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা জুম সফটওয়ারের মাধ্যমে অনলাইনে নেয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় আমাদেরকে সার্বক্ষনিক সহযোগীতা করছে মাহমুদুল হাসান। সেও অনেক দিন ধরে মার্কেটপ্লেস এবং লোকাল মার্কেটে প্রফেশনাল ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে কাজ করছে। আমাদের মূলত ঈদের আগেই ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। তবে ইন্টারভিউতে গিয়ে আমার বেশ কিছু নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। এখানে আসলে তিন ধরনের ছেলেমেয়েরা যুক্ত হবার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কিছু কিছু ছেলে মেয়েদের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ আগ্রহ রয়েছে এবং তারা নিজেরাও ইউটিউব এর মাধ্যমে কিংবা হচ্ছে গুগল সার্চ করে অনেক কিছু জানার চেস্টা করেছে। অনেকে কিছুটা শিখতেও শুরু করেছে তবে ঠিক ঠিক দিকনির্দেশনার একটা অভাব বোধ করছে তারা। আবার কিছু কিছু ছেলে মেয়েদের পাওয়া গেছে যারা আগ্রহ দেখিয়েছে কিন্তু তারা কখনোই জানেনা যে ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে কি কাজ হয় এবং কিভাবে করতে হয় । আমাদের ইন্টারভিউর প্রথম প্রশ্নই ছিল যে ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা আছে কিনা। আবেদনকারীদের মধ্যে আরেক ধরনের শিক্ষার্থী পাওয়া গেছে যারা ওয়েব ডিজাইন ছাড়া অন্য বিষয়ে অনেক বেশী দক্ষ এবং মার্কেটপ্লেসে এখনি কাজ শুরু করার উপযুক্ত। তারা এখন নতুন করে ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট শিখতে শুরু করলে এক্সপার্ট হতে অনেক বেশী সময় লেগে যাবে। আমার মনে হয় কোন কিছু শিখতে চাওয়ার আগে সেটা সম্পর্কে একটা প্রাথমিক ধারণা নেওয়া উচিত। অনলাইনে সার্চ করে কিংবা ইউটিউবে ভিডিও দেখে এই তথ্যগুলো সবার পক্ষে জানা সম্ভব। যা হোক সব মিলিয়ে আমাদের প্রথম এবং দ্বিতীয় ব্যাচের জন্য কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করতে পেরেছি। সকলের সাথে যোগাযোগ এবং এসাইনমেন্ট জমা দেয়ার মাধ্যম হিসেবে গুগল ক্লাসরুম সফটওয়ারটি বেছে নিয়েছি। ঈদের আগে ক্লাস শুরু করতে পারিনি কিন্তু আমরা একজন অন্যজনের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য চেষ্টা করছি। প্রথম পর্বে আমরা অনুরোধ করেছি যেন সকল প্রশিক্ষনার্থী নিজের সম্পর্কে ভিডিও রেকর্ড করে পাঠায়। অনেকেই দারুন সব ভিডিও পাঠিয়েছে এবং তাদের প্রেজেন্টেশন যথেষ্ট সুন্দর। ভিডিও এডিটিং এবং তাদের কথা বলার ধরন খুব অসাধারন ছিল অভিভূত হওয়ার মতো। আমরা যাচাই-বাছাই করে দুইজনকে সেরা শিক্ষার্থীকে নির্বাচিত করেছি ।প্রথম গ্রুপে নির্বাচিত হয়েছে হুমায়ূন আহমেদ এবং দ্বিতীয় গ্রুপে নির্বাচিত হয়েছে নুর আলম। হুমায়ূন আহমেদের সাথে আমার ব্যক্তিগত ভাবে আলাপ হয়েছে, সে দীর্ঘদিন ধরে তার এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠানসহ বেশ কিছু প্রফেশনাল মানের ডকুমেন্টারি তৈরির কাজ করে আসছে। জুনের ১ তারিখ থেকে পুরোদমে ক্লাস শুরু হবে, তার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা। আশা করি, যারা আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছে তারা ধৈর্যের সাথে মনোযোগের সাথে আমাদের ক্লাসের যুক্ত থাকবে। যে এসাইনমেন্ট দেওয়া হবে সেগুলো সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করবে।
বাংলাদেশের জব মার্কেট এবং আমাদের আর্থসামাজিক অবস্থার কারণে ফ্রিল্যান্স জব দিনই দিনের জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গত ১০ বছর ধরে বেশকিছু মার্কেটপ্লেস যেমন freelancer.com, upwork.com এবং fiverr.com বাংলাদেশ অনেক বেশি জনপ্রিয়। এই লেখায় আমরা fiverr.com মার্কেটপ্লেস নিয়ে আলোচনা করব। সেই সাথে মার্কেটপ্লেসের বাইরে কাজ করে ক্যারিয়ার গড়ার বিষয় নিয়ে আলাপ করব।
ফাইভার কিওয়ার্ড রিসার্চ টুল
ফাইভার মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে আপনাদের যাদের ধারণা আছে আপনারা নিশ্চয়ই জানবেন এখানে বিডিং সিস্টেমে কাজ হয় না। আমাদের যোগ্যতা অনুযায়ী অফার তৈরি করে রাখি সেগুলোকে বলা হয় গিগ এবং ক্লায়েন্টরা অফার গুলো থেকে পছন্দমত গিগ খুজে নিয়ে অর্ডার করেন। এত বেশী সংখ্যক ফ্রিল্যান্সাররা অফার/গিগ তৈরী করে রেখেছে যে নতুন ফ্রিল্যান্সারদের তৈরী করা অফারটি অনেক সময় ক্লায়েন্টের চোখেই পড়ে না। তাই ক্লায়েন্ট যে সব কিওয়ার্ড লিখে ফাইভার মার্কেটপ্লেসে সার্চ করে থাকে সেগুলো আমাদের অফারের মধ্যে লেখা থাকলে আমাদের অফারটি ক্লায়েন্টের নজরে আসবে খুব সহযে। সার্চ রেজাল্টে যে গিগগুলো ইতোমধ্যে জনপ্রিয় হয়েছে সেগুলো এনালাইসিস করার মাধ্যমে আমরা আমাদের গিগের জন্য উপযুক্ত কিওয়ার্ড এবং ট্যাগ খুজে পেতে পারি। ফাইভার এনালাইজার সফটওয়ার কিওয়ার্ড এনালাইসিসের কাজটিকে সহয করবে। ডেস্কটপ ডাউনলোড - Fiverr Analyzer
ব্যবহার বিধি - http://bit.ly/2KfSRKv
ওয়েব ভার্সন - https://fiverr.iboxbd.com
ব্যবহার বিধি - http://bit.ly/2MDBXai
সার্ভিস বিনিময় করা
সুন্দর কিওয়ার্ড এবং ট্যাগ ব্যবহার করা হলে আপনার গিগটি একটি খুব সহজে আপনার ক্লায়েন্টের নজরে আসবে কিন্তু আপনার গিগটি আকর্ষণীয় না হলে ক্লায়েন্ট অফারটি কিনতে আগ্রহী হবে না। আপনার গিগটি আকর্ষণীয় করার জন্য বেশ কিছু বিষয়ে নজর দেয়া দরকার। প্রথমত একটি সুন্দর থামবনীল ইমেজ ব্যবহার করা দরকার। একটি সুন্দর এনিমেশন ভিডিও যোগ করা যেতে পারে। সুন্দর ইংরেজিতে গিগ ডেস্ক্রিপশন লেখা দরকার। একজন ফ্রিল্যান্সার একটি কিংবা দুটি বিষয়ে এক্সপার্ট হতে পারেন। তাই যে বিষয়গুলো আমরা জানি না সে বিষয়ে অন্যান্য এক্সপার্টদের কাছ থেকে সহযোগীতা নিতে পারি। এভাবে একজন অন্যজনের সহযোগীতা নিয়ে ফাইভার মার্কেটপ্লেসে আমরা আমাদের সেল বাড়াতে পারি। আপনার কি কি স্কিল আছে এবং আপনার গিগ সুন্দর করার জন্য কি কি প্রয়োজন সেটা আমাদের ফেসবুক গ্রুপে লিখুন। ফেসবুক গ্রুপ - http://bit.ly/2KjZD2P
মার্কেটপ্লেসের বাইরে কাজ পাওয়া
আন্তর্জাতিকভাবে মার্কেটপ্লেসগুলোতে প্রতিযোগিতা বেড়ে চলেছে দিন দিন। সে কারণে প্রত্যেকটি মার্কেটপ্লেস তাদের নিয়মকানুনে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। ফ্রিল্যান্সারদের নানা রকম চাপ এবং শর্তের বেড়াজালে আবদ্ধ রেখে ক্লায়েন্টদের অতিরিক্ত সুবিধা দেয়ার চেস্টা করছে। এমন কিছু পরিস্থিতি তৈরী করে রেখেছে যাতে ফ্রিল্যান্সাররা কম বাজেটে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। ছোট খাট কারনে ফ্রিল্যান্সারদের প্রোফাইল ব্যান/ডিসএবল করে দিচ্ছে, অথচ ডিসএবল করার আগে এটা নিয়ে খুব বেশী কিছু আলোচনা করছে না। হঠাত করেই কারো প্রোফাইল নস্ট হয়ে গেলে আবার স্বাভাবিক গতিতে কাজ পাওয়াটা একটা চ্যালেঞ্জিং বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। মার্কেটপ্লেসের বাইরে সত্যিকারের ক্লায়েন্ট ফ্রিল্যান্সারদের সুবিধা অসুবিধা বোঝেন। আমাদের চেষ্টা করা উচিত মার্কেটপ্লেসের বাইরে থেকে সরাসরি ক্লায়েন্ট পাওয়া এবং নিয়মিত কাজ পাওয়ার ব্যবস্থা করা। আপনিও যদি মার্কেটপ্লেসের বাইরে সরাসরি কাজ করতে আগ্রহী হন তাহলে আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন।
মেসেঞ্জার গ্রুপ - http://bit.ly/2KcobcW